দেখতে দেখতে শেষ হতে চললো ২০২৩। বরাবরের মতো ২০২৩ অ্যানিমে ফ্যানদের জন্য ছিল অসাধারণ একটি বছর। ডেমন স্লেয়ার, জুজুৎসু কাইসেন-এর মতো বেশকিছু ফ্যান-ফেভারিট সিক্যুয়েলের পাশাপাশি রিলিজ হয়েছে ‘ওশি নো কো’, ‘হেল’স প্যারাডাইস’ এবং ‘প্লুটো’-র মতো অসাধারণ নতুন অনেক সিরিজেরও। এবছরের সেরা অ্যানিমেগুলোর থেকে সেরাগুলো বাছাই করা ছিল অত্যন্ত জটিল একটি কাজ। অবশেষে বছর শেষে নিচের অ্যানিমগুলো ওটাকু বাংলা’র বাছাই করা (ওবি লিস্ট) ২০২৩ এর টপ অ্যানিমে সিরিজ রেকমেন্ডেশন।
১০. জুজুৎসু কাইসেন (সিজন ২)
স্টুডিয়ো: মাপ্পা

এবছরের সবচেয়ে হাইপড অ্যানিমেগুলোর একটি জুজুৎসু কাইসেন-এর দ্বিতীয় সিজন। জুজুৎসু কাইসেনের জনপ্রিয়তা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। মর্ডান শোনেন অ্যানিমেগুলোর মধ্যে অন্যতম ফ্যান-ফেভারিট অ্যানিমেতে পরিণত হয়েছে জুজুৎসু কাইসেন।
সিরিজটির দ্বিতীয় সিজন অ্যাডাপ্ট করেছে অরিজিনাল মাঙ্গা সিরিজের “শিবুইয়া ইন্সিডেন্ট আর্ক”। সিরিজটির শুরু হয় ফ্যান-ফেভারিট ক্যারেক্টার গোজো সাতোরুর ব্যাকস্টোরির দ্বারা এবং যে-সব ঘটনাচক্রে সাতোরুর বেস্টফ্রেন্ড সুগুরু গেতো পরিণত হয় শত্রুতে।
এরপর সিরিজটির কাহিনি ফিরে আসে অরিজিনাল প্লটে যেখানে স্পেশাল গ্রেড কার্স স্পিরিটরা হ্যালোউইনের রাতে টোকিও-র শিবুইয়া এরিয়াতে গোজো সাতোরু-কে অবরুদ্ধ করার লক্ষ্যে ভয়াবহ এক চক্রান্তকে সামনে রেখে আগাতে থাকে।
প্রথম সিজনের তুলনায় দ্বিতীয় সিজন অনেক বেশি অ্যাকশন-প্যাকড, ট্র্যাজিক এবং উত্তেজনায় ভরপুর। জুজুৎসু কাইসেন’এর দ্বিতীয় সিজন এবছর মুক্তি পাওয়া অন্যতম সেরা একটি সিরিজ।
৯. মাই হ্যাপি ম্যারেজ
স্টুডিয়ো: কিনেমা সিটরাস

এবছরের অন্যতম জনপ্রিয় রোমান্স অ্যানিমে হিসেবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে “মাই হ্যাপি ম্যারেজ” সিরিজটি। সিরিজটি এক্সক্লুসিভলি ব্রডকাস্ট করেছে স্ট্রিমিং জায়ান্ট নেটফ্লিক্স। সিরিজটি আকুমি আগিতোগির একই নামে প্রকাশিত জনপ্রিয় লাইট নভেলের অ্যানিমে অ্যাডাপ্টেশন।
সিরিজটির প্লট মেইজি এরা’র জাপানে, সোসাইটি তখনো ট্র্যাডিশনাল ফ্যামিলি সিস্টেম ফলো করতো। সিরিজটর হিরোইন মিয়ো এক অভিজাত পরিবারের সদস্য হওয়ার পরও সৎমায়ের নির্যাতন ও পরিবারের অবহেলায় বড় হয়। ট্র্যাডিশনাল ফ্যামিলি নর্মস হিসেবে মিয়োর বিয়ে কুদো ফ্যামিলির কিয়োকা-র সাথে দেওয়ার জন্য তার মিয়োর ফ্যামিলি সিদ্ধান্ত নেয়। কুদো ফ্যামিলির সাথে বসবাস শুরু করার পর পাল্টে যেতে থাকে অবহেলিত মিয়োর জীবন।
এবছরের রোমান্স অ্যানিমে হিসেবে হোরিমিয়ার মতো সিরিজের পাশাপাশি নতুন এই সিরিজটি জায়গা করে নিয়েছে অ্যানিমে ফ্যানদের মাঝে।
৮. হেল’স প্যারাডাইস
স্টুডিয়ো: মাপ্পা

হেল’স প্যারাডাইস এবছরের অন্যতম আলোচিত অ্যানিমেগুলোর মধ্যে অন্যতম। সিরিজটির অ্যানিমেশন, অ্যাকশন ও দুর্দান্ত থ্রিলারের দ্বারা সহজেই এবছরের অন্যতম ফ্যান-ফেভারিট অ্যানিমেতে পরিণত হয় হেল’স প্যারাডাইস।
সিরিজটির কাহিনীর পটভূমি মধ্যযুগের জাপান। সিরিজটির প্রধান চরিত্র “গাবিমারু দ্য হলো” দুর্ধর্ষ এক নিনজা। নিজের ক্ল্যানের দ্বারা প্রতারিত গাবিমারুর শিরশ্ছেদের পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। কিন্তু বেঁচে থাকার প্রবল ইচ্ছার কাছে হার মানে কাতানা। গাবিমারুর শিরশ্ছেদের জন্য ডাক পড়ে ইয়ামাদা আসায়েমন ক্ল্যানের সাগিরির। সাগিরি গাবিমারুর জীবনের বদলে নতুন এক প্রস্তাব নিয়ে আসে। শোগানের আদেশ অনুযায়ী গাবিমারুকে পাঠানো হবে রহস্যময় এক দ্বীপে, সাথে গাবিমারুর মতো আরো অনেক দুর্ধর্ষ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের। শিনসেনকিয়ো বা প্যারাডাইস হিসেবে পরিচয় পাওয়া রহস্যময় হয় দ্বীপে রয়েছে অমরত্বের রহস্য, এলিক্সার অফ এটারনাল লাইফ। অমরত্বের এই রহস্যের মাধ্যমেই কেবল নিজের স্বাধীনতা ফিরে পাওয়া সম্ভব গাবিমারু ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বাকিদের।
শুরু হয় বিপজ্জনক অজানা এক দ্বীপে জীবনরক্ষা ও অজানা শত্রুর হাত থেকে বেঁচে ফিরে আসার লড়াই। অ্যাকশন লাভারদের জন্য একটা মাস্ট ওয়াচ হেল’স প্যারাডাইস।
৭. প্লুটো
স্টুডিয়ো: স্টুডিও এম২

ক্রিটিকালি এক্লেইমড সিরিজ “মনস্টার” এর স্রষ্টা হিসেবে খ্যাত নাওকি উরাসাওয়া-র “প্লুটো” এবছরের আন্ডারডগ অ্যানিমেগুলোর একটি। ৮ এপিসোডের সিরিজটির প্রডিউসার নেটফ্লিক্স।
প্লুটোর প্লটলাইন গতানুগতিক সায়েন্স-ফিকশন মিস্টেরি হিসেবে ইউনিক, সিরিজটি ফ্যান্টাসি এলিমেন্টের পাশাপাশি “ওয়ার অন টেরোরিজম”-এর মতো রিয়াল লাইফ কন্ট্রোভার্শিয়াল ইভেন্টকে মেটাফোর হিসেবে ব্যবহার করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবট নিয়ে এর আগেও অনেক অ্যানিমে নির্মিত হয়েছে যেখানে যেখানে অ্যান্ড্রয়েডদের মধ্যে তৈরি হয়েছিলো মানুষের মতো কমপ্লেক্স ইমোশন ও ইন্ডিপেনডেন্ট ডিসিশন মেকিং। প্লুটো তার সাথে যোগ করেছে টানটান উত্তেজনাকর থ্রিলার এবং মার্ডার মিস্টেরি।
এক সিরিয়াল কিলার একে-একে টার্গেট করছে বিশ্বের সবচেয়ে অ্যাডভান্সড রোবট এবং রোবটদের পক্ষের অ্যাক্টিভিস্টদের। এমন এক ভবিষ্যৎ, যেখানে রোবটদের রয়েছে মানুষের মতো অনুভূতি। সিরিজটি রোবটদের চোখে মানবসভ্যতার ডার্ক সাইডগুলোকে এক্সপ্লোর করে।
৬. স্কিপ অ্যান্ড লোফার
স্টুডিয়ো: পি.এ. ওয়ার্কস

স্লাইস অফ লাইফ অ্যানিমে “স্কিপ অ্যান্ড লোফার” ২০২৩ এর সেরা অ্যানিমেগুলোর একটি। সিরিজটির প্লট জাপানের ছোট এক শহর থেকে হাই স্কুলে পড়ার জন্য টোকিওতে আসা মিতসুমি ইওয়াকাওয়া নামের এক কিশোরীকে ঘিরে। মেধাবী, পরিশ্রমী মিতসুমি টোকিওর পরিবেশের জন্য খানিকটা অকওয়ার্ড। ঘটনাচক্রে স্কুলের প্রথমদিনই সবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় মিতসুমি। গ্রাম্য পরিবেশে বড় হওয়া মিতসুমির টোকিও লাইফের সাথে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার পাশাপাশি স্কুলের নতুন বন্ধুদের সাথে ঘনিষ্ঠ হতে থাকে। বড় শহরের সাথে অপরিচিত মিতসুমি প্রায়ই বিভিন্ন অপ্রস্তুত অবস্থায় নিজেকে আবিষ্কার করতে থাকে একইসাথে নিজেকে ও তার আশেপাশের মানুষদের।
সিরিজটির ফোকাস মানুষের প্রতিদিনকার জীবনের উপর, সাথে কমেডিক মোমেন্ট ও রোমান্স এলিমেন্ট এবং হোলসাম অনেক মোমেন্ট। স্লাইস অফ লাইফ ফ্যানদের জন্য সিরিজটি রেকমেন্ডেড।
৫. ওশি নো কো
স্টুডিও: দোগা কোবো

২০২৩ এর সবচেয়ে আলোচিত অ্যানিমে “ওশি নো কো”। জনপ্রিয় রোমান্স-কমেডি সিরিজ কাগুয়া সামা-র আর্টিস্ট আকা আকাসাকা’-র জনপ্রিয় মাঙ্গার অ্যাডাপ্টেশন হিসেবে তুমুল জনপ্রিয়তা লাভ করে সিরিজটি।
সিরিজটির মূল পটভূমি জাপানের এন্টারটেইনমেন্ট ইন্ডাস্ট্রির ডার্ক ও ডিস্টার্বিং সাইড। সিরিজটির এক ঘণ্টার স্পেশাল ফার্স্ট এপিসোড ভিউয়ারদের পরিচয় করিয়ে দেয় কিশোরী এক আইডলের সাথে, “বি কোমাচি” আইডল গ্রুপের আই হোশিনো। গোপনে প্রেগন্যান্সির কারণে ছোট এক শহরে সাময়িকভাবে চলে আসে আই। তার দায়িত্বে থাকা ডাক্তার, গোরো আমেমিয়া ঘটনাচক্রে হত্যার শিকার হয় আই-এর এক স্টকারের হাতে। ভাগ্যের ফেরে আই-এর যমজ সন্তানের একজন হিসেবে রিইনকার্নেটেড হয় গোরো, নতুন পরিচয় আকুয়া হোশিনো। কয়েকবছর পর আই নিজেও নির্মমভাবে হত্যার শিকার হয় স্টকারের হাতে। আকুয়ার কাছে কোনোভাবেই এই মৃত্যু স্বাভাবিক মনে হয়নি। দৃঢ়প্রতিজ্ঞ আকুয়া সিদ্ধান্ত নেয় জাপানের এন্টারটেইনমেন্ট ঈন্ডাস্ট্রিতে অনুপ্রবেশের, এবং আই হোশিনোর হত্যাকারীকে খুঁজে বের করার।
প্রথম এপিসোড ব্রডকাস্টের পরপরই বেশ ক্রিটিক্যাল রেসপন্স পায় সিরিজটি। সিরিজটি জাপানের আইডল কালচার ও ওভারল এন্টারটেইনমেন্ট বিজন্যাসের নানা দিক তুলে ধরে ভিউয়ারদের কাছে। সিরিজটি ২০২৩ এর অন্যতম সেরা একটা সিরিজে পরিণত হয়েছে এর ইউনিক প্লট ও প্রোডাকশন কোয়ালিটির জন্য।
৪. হেভেনলি ডিল্যুশন
স্টুডিও: প্রোডাকশন আই.জি

হেভেনলি ডিল্যুশন এবছরের অন্যতম আন্ডাররেটেড অ্যানিমে। সিরিজটি মূলত সায়েন্স ফিকশন মিস্টেরি, অ্যাডভেঞ্চার জনরার। সিরিজটির প্লটের কেন্দ্রে রয়েছে কিরুকো ও মারু, একইসাথে ভিন্ন এক প্লট, রহস্যময় শক্তির অধিকারী শিশুদের নিয়ে গোপন রিসার্চ ফ্যাসিলিটি।
পনেরো বছর আগে এক ভয়াবহ দুর্দশার পর মানবসভ্যতা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে, এদিকে মানুষখেকো মনস্টার চষে বেড়াচ্ছে ধ্বংসপ্রায় পৃথিবীতে। কিরুকো ও মারু এই ধ্বংসপ্রায় দুনিয়াতে খুঁজে বেড়াচ্ছে “তেনগোকু” (Heaven) নামক অজানা এক স্থানের, যেখানে মিলবে তাদের অজানা রহস্যের উত্তর। কিরুকো ও মারুর অ্যাডভেঞ্চার তাদের নিয়ে যেতে থাকে রহস্যের কেন্দ্রবিন্দুতে, গোপন সেই রিসার্চ ফ্যাসিলিটির দিকে।
মিস্টেরি জনরার অ্যানিমে হিসেবে বেশ প্রশংসিত হয়েছে সিরিজটি। যদিও সিরিজটির সমাপ্তি হয়েছে ফ্যানদের বেশিরভাগ প্রশ্নের উত্তর ছাড়াই। সিরিজটির বেশিরভাগ রহস্যের উত্তর হয়ত পাওয়া যাবে সিরিজটির সম্ভাব্য কোনো সিক্যুয়েলে।
৩. জম ১০০: বাকেট লিস্ট অফ দ্য ডেড
স্টুডিও: বাগ ফিল্মস

এবছরের অন্যতম জনপ্রিয় নতুন অ্যানিমে জম ১০০ (Zom 100) যা রিলিজের পর জাপানের ডমেস্টিক ফ্যানডমের পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবেও ব্যাপক সাড়া ফেলে।
অ্যানিমের প্লট জাপানের অস্বাস্থ্যকর ওয়ার্কপ্লেস এথিক্সকে কটাক্ষ করে তৈরি যার যা আকিরা কেনদো নামক এক স্যালারিম্যানকে ঘিরে শুরু হয়। কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশনের পর ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে ওয়ার্কলাইফে জয়েন করে আকিরা। কিন্তু জাপানের অপ্রেসিভ ওয়ার্কপ্লেস এথিক্স, আনপেইড ওভারটাইমে দুর্বিষহ হয়ে ওঠে আকিরার জীবন। দীর্ঘ তিনবছর ধরে চলে আকিরার এমন অস্বাভাবিক জীবন যেখানে কর্মব্যস্ততা ছাড়া কিছুই বাকী ছিল না আকিরার জীবনের।
এর মাঝে জাপানে এক অজানা কারণে শুরু হয় জম্বি অ্যাপোক্যালিপস। জাপানের মানুষ হঠাৎ করে জম্বিতে পরিণত হওয়া শুরু করে। কিন্তু আকিরা এই দুর্যোগের মাঝে ফিরে পায় নতুন জীবন, সিদ্ধান্ত নেই জম্বি হওয়ার আগে জীবনকে পরিপূর্ণভাবে উপভোগ করার।
সিরিজটি কমেডি এবং জম্বি মহামারির দ্বারা জাপানের ওভারওয়ার্ক কালচারকে কটাক্ষ করে। অ্যানিমেশন ও কালার প্যালেটের ব্যবহার ছিলো চমৎকার। প্রথম এপিসোডে মলিন কালার প্যালেট আকিরার ওয়ার্ক লাইফকে ইন্ডিকেট করে। অন্যদিকে জম্বি মহামারি শুরুর পর কালার প্যালেট চেঞ্জ হয়ে যায়, আকিরার জীবনকে নতুনভাবে উপলব্ধি করার চিহ্ন হিসেবে এই পরিবর্তন।
সিরিজটির নির্মাতারা জাপানের ওয়ার্কপ্লেস এথিক্সকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সিরিজটি বাগ স্টুডিওর প্রথম প্রজেক্ট। সিরিজটির অ্যানিমেটররা আলাদাভাবে নতুন স্টুডিও প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন অ্যানিমে ইন্ডাস্ট্রির টক্সিক ওয়ার্ক কালচারের বিরুদ্ধে প্রটেস্ট হিসেবে। সিরিজটির ফাইনাল তিন এপিসোড রিলিজ হবে ২০২৩ এর ক্রিসমাসে।
২. ভিনল্যান্ড সাগা (সিজন ২)
স্টুডিয়ো: মাপ্পা

দীর্ঘ চার বছর পর রিলিজ হওয়া ভিনল্যান্ড সাগা সিজন ২ ছিল এবছরের বহুত আকাঙ্ক্ষিত অ্যানিমেগুলোর একটি। সিরিজটির পটভূমি একাদশ শতাব্দীর ভাইকিং আক্রান্ত ইউরোপ।
সিরিজটির সিজন ১ আমাদের পরিচয় করিয়ে দেয় বালক থরফিনের সাথে। থরফিনের কৈশোরকাল কাটে যুদ্ধের ময়দানে। পিতৃহত্যার প্রতিশোধের নেশায় থরফিন ভুলে যায় তার পিতার মূল্যবান উপদেশ। প্রতিশোধের নেশায় ডুবে থাকা থরফিনের সামনে যখন তার পিতার হত্যাকারী ভাইকিং আসকেলাদ মারা যায়, তখন থেকে থরফিন এক শূন্যতা অনুভব করা শুরু করে।
দ্বিতীয় সিজনটি প্রথম সিজনের চেয়ে আলাদা। এখানে অ্যাকশনের বদলে দাসত্বের শিকলে বন্দী থরফিনের জীবনকে কেন্দ্র করে কাহিনি। এখানে আমরা দেখি ভিন্ন এক থরফিনকে। অতীতের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতপ্ত এক মানুষকে। থরফিনের সাথে এরমাঝে পরিচয় হয় আরেকজন ক্রীতদাসের, এইনার। এইনার ভাইকিংদির আক্রমণে হারিয়েছিলো নিজের ভিটেমাটি, পরিবার, সবকিছুই। এইনারের সাথে পরিচয়, বন্ধুত্বের পাশাপাশি আস্তে-আস্তে পরিবর্তন আসতে শুরু করে থরফিনের মাঝেও। সে আর প্রতিশোধের নেশায় যুদ্ধের ময়দানে হন্যে হয়ে বেড়ানো থরফিন নয়, বরং ভিন্ন এক মানুষ। এই লড়াই তার পিতার মতো সত্যিকারের যোদ্ধা হওয়ার লড়াই।
ভিনল্যান্ড সাগা অন্যান্য অ্যানিমের মতো অ্যাকশন-প্যাকড নয়, বরং সিজন ২ এর কাহিনি হচ্ছে থরফিনের রিডেম্পশন আর্ক। অসাধারণ ন্যারেটিভ, ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট, অ্যানিমেশন, মিউজিকের জন্য ভিনল্যান্ড সাগা একটি মাস্ট ওয়াচ অ্যানিমে!
১. ফ্রিরেন: বিয়ন্ড জার্নিস এন্ড
স্টুডিয়ো: ম্যাডহাউজ

ফ্যান্টাসি-অ্যাডভেঞ্জার অ্যানিমে “ফ্রিরেন: বিয়ন্ড জার্নিস এন্ড” নিঃসন্দেহে এবছরের সেরা অ্যানিমে। সিরিজটি রিলিজের সাথে সাথেই অ্যানিমে ফ্যানদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে, ভেঙ্গে ফেলে একের পর এক রেকর্ড।
সিরিজটির স্টোরির পটভূমি এক ফ্যান্টাসি ওয়ার্ল্ড, কাহিনীর কেন্দ্রে রয়েছে এল্ফ মেজ ফ্রিরেন। ফ্রিরেন ও তার সঙ্গী অ্যাডভেঞ্চারারদের দল সফলভাবে ডেমন কিং-কে পরাজিত করে এবং মাবজাতিকে রক্ষা করে ধ্বংসের হাত থেকে। প্রায় একযুগ একসাথে অভিযানের পর ফ্রিরেন বিদায় নেয় তার সঙ্গীদের কাছ থেকে। এল্ফ হিসেবে একযুগ খুবই নগণ্য। কিন্তু মানুষের আয়ু এল্ফদের মতো দীর্ঘ নয়। ফ্রিরেনের সঙ্গী অ্যাডভেঞ্চারার হিম্মেল দ্য হিরোর মৃত্যুর পর ফ্রিরেনের জীবনে পরিবর্তন আসা শুরু করে। ফ্রিরেনের মাঝে কাজ করছিলো অনুশোচনা। কেননা, একযুগের অ্যাডভেঞ্চার তার জীবনের জন্য নগণ্য হলেও তার সঙ্গীদের জন্য ছিল দীর্ঘ এক সময়। ফ্রিরেন এই দীর্ঘ সময়ে তাদের উপলব্ধি করার তেমন কোনো আগ্রহ দেখায়নি। কিন্তু তাদের জীবনসন্ধ্যায় ফ্রিরেন উপলব্ধি করে মানুষের জীবন কতটা ক্ষণস্থায়ী। ফ্রিরেন জীবনকে নতুনভাবে আবিষ্কারের জন্য শুরু করে নতুন এক অ্যাডভেঞ্চার।
ফ্রিরেন: বিয়ন্ড জার্নিস এন্ড গতানুগতিক ফ্যান্টাসি অ্যানিমে থেকে আলাদা। বেশিরভাগ ফ্যান্টাসি অ্যানিমের আকর্ষণ থাকে অ্যাকশন, অ্যাডভেঞ্চার। অন্যদিকে ফ্রিরেন পশ্চিমা দর্শনের দার্শনিকদের মতো মানুষের অস্তিত্ব, জীবন, পারসোনাল রিলেশন, জীবনের উদ্দেশ্য ও সার্থকতা এক্সপ্লোর করার চেষ্টা করে এল্ফ ফ্রিরেনের মাধ্যমে। ফ্রিরেন: বিয়ন্ড জার্নিস এন্ড একই সাথে হিউম্যান এক্সিস্ট্যান্সকে এক্সপ্লোর করার পাশাপাশি অসাধারণ অ্যাডভেঞ্চার ও ক্যারেক্টার ডেপেলপমেন্ট ও স্মৃতিকাতরতার স্বাদ দেয়। সিরিজটির ন্যারেটিভ, ফিলোসফি, সাউন্ডট্র্যাক, ওয়ার্ল্ডবিল্ডিং এক কথায় অনন্য।
এছাড়াও আমাদের লিস্টে ২০২৩ এর বেশ কিছু সম্মানজনক উল্লেখ করার মতো অ্যানিমে হলো:
১. অ্যাটাক অন টাইটান ফাইনাল সিজন: দ্য ফাইনাল চাপ্টারস।
২. টু ইয়োর এটার্নিটি সিজন ২
৩. ড.স্টোন: নিউ ওয়ার্ল্ড
৪. মুশোকু টেনসেই: জবলেস রিইনকার্নেশন সিজন ২
৫. স্পাই ফ্যামিলি (সিজন ২)
৬. বুঙ্গো স্ট্রে ডগস (সিজন ৫)
এই ছিলো ওটাকু বাংলা-র হ্যান্ড পিকড ২০২৩ সালের সেরা অ্যানিমে সিরিজের লিস্ট।
