আমাদের সাইটটি ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি আমাদের প্রাইভেসি পলিসি এবং টার্মস অব ইউজ-এর সাথে সম্মত হন।
ঠিক আছে
ওটাকু বাংলা
  • প্রচ্ছদ
  • সংবাদ
  • সিরিজ
  • মুভি
  • মাঙ্গা
  • যোগাযোগ
  • লগিন
Reading: অ্যানিমে স্টুডিও: ম্যাডহাউজ
মার্চ কিনুন
গরম সংবাদ
দেশি চরিত্রকেন্দ্রিক দেশি কমিক কন – ঢাকা ২০২৬ নিয়ে আয়োজকদের নতুন আপডেট
প্রাণবন্ত আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো “ঢাকা পপ & কসপ্লে ফেস্ট ২০২৬”
দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর ৭ আগস্ট ফিরছে ‘ঢাকা পপ & কসপ্লে ফেস্ট ২০২৬’
বাংলাদেশি কমিক কালচারকে নতুন উচ্চতায় নিতে আসছে ‘দেশি কমিক কন ঢাকা ২০২৬’
গ্র্যান্ড ব্লু সিজন ৩-এর মূল ট্রেলার প্রকাশ, প্রিমিয়ার ৬ জুলাই
ওটাকু বাংলাওটাকু বাংলা
  • সংবাদ
  • সিরিজ
  • মুভি
  • মাঙ্গা
  • আমাদের কথা
  • আমাদের টিম
  • যোগাযোগ
সার্চ
  • প্রচ্ছদ
  • সংবাদ
  • সিরিজ
  • মুভি
  • মাঙ্গা
  • যোগাযোগ
  • লগিন
অরিজিনাল অ্যানিমে ‘সুইসাইড স্কোয়াড ইসেকাই’ আসছে ২০২৪ এ!

অরিজিনাল অ্যানিমে ‘সুইসাইড স্কোয়াড ইসেকাই’ আসছে ২০২৪ এ!

৪ ডিসেম্বর, ২০২৩
ফেইসবুকLike
এক্সFollow
পিন্টারেস্টPin
ইন্সটাগ্রামFollow
© 2023 – 2026 ওটাকু বাংলা।
ফিচার

অ্যানিমে স্টুডিও: ম্যাডহাউজ

By Tanvir Rana Rabbi
৩০ অক্টোবর, ২০২৫
Share
অ্যানিমে স্টুডিও: ম্যাডহাউজ
© Madhouse
SHARE

ম্যাডহাউজ (Madhouse) অ্যানিমে জগতের অন্যতম প্রোলিফিক এবং রেসপেক্টেড একটা অ্যানিমেশন স্টুডিও। স্টুডিওটি শুধু জাপানের পুরোনো স্টুডিওগুলোর মধ্যে একটি নয়, বরং ‘মুশি প্রো (Mushi Pro)’ পরবর্তী “সেকেন্ড ওয়েভ” এর উল্লেখযোগ্য স্টুডিওগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই অ্যাওয়ার্ড-উইনিং স্টুডিওটি জনপ্রিয় মাঙ্গা অ্যাডাপ্টেশন, অরিজিনাল টিভি সিরিজ, কিছু উল্লেখযোগ্য ওয়েস্টার্ন কোলাবোরেশান, এবং ভিশনারি ডিরেক্টরদের সাথে কাজের জন্য পরিচিত। চলুন আমরা আজকে ম্যাডহাউজের ইতিহাস, তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান, প্রতিষ্ঠাতাদের ভূমিকা, এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে জেনে নাই।

ব্যুৎপত্তি – শিকর থেকে শেখারের পথে?

১৯৬৮ সালে অ্যানিমে ও মাঙ্গা কিংবদন্তি ওসামু তেজুকা মুশি প্রো স্টুডিও ছেড়ে নতুন করে তেজুকা প্রোডাকশনস (Tezuka Productions) নামের একটি স্টুডিও প্রতিষ্ঠা করেন। এর ফলে মুশি প্রো অস্তিত্ব সংকটে পড়ে যায় যা শেষমেশ ১৯৭৩ সালে দেউলিয়া ঘোষণার মাধ্যমে শেষ হয়। এই পতনের প্রেক্ষিতে মুশি প্রো-র সাবেক কর্মীরা দুটি নতুন অ্যানিমে স্টুডিও প্রতিষ্ঠা করেন সানরাইজ (Sunrise) এবং ম্যাডহাউজ (Madhouse)।

অ্যানিমে স্টুডিও: ম্যাডহাউজ
২০১৬ সালে বছর সংক্রান্তিতে অনুষ্ঠিত পার্টিতে ম্যাডহাজের স্টাফগণ। ©MADHOUSE/Facebook

শুরুতে ম্যাডহাউজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল টিএমএস এন্টারটেইনমেন্ট (তৎকালীন টোকিও মুভি শিনশা)-এর আউটসোর্সিং ইউনিট হিসেবে। স্টুডিওটি ১৯৭২ সালের ১৭ অক্টোবর মাসাও মারুয়ামা, ওসামু দেজাকি, রিনতারো (শিগেয়ুকি হায়াশী), এবং ইয়োশিয়াকি কাওয়াজিরি কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়। এর নামকরণ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। কেউ বলে এটি চিবা প্রিফেকচারের মাসুদো হাউস থেকে নেওয়া, আবার কেউ বলে এটি ‘মারুয়ামা অ্যান্ড দেজাকি’ র সংক্ষিপ্ত রূপ। তবে যেটাই হোক না কেন, ১৯৯৯ সালে এর নাম ম্যাডহাউজ লিমিটেড (Madhouse Ltd. থেকে ম্যাডহাউজ ইনকর্পোরেটেড (Madhouse Inc.) হওয়া ছাড়া আজ পর্যন্ত এর নামের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

স্টুডিওর প্রথম অফিস ছিল টোকিওর মিনামি-আসাগায়া স্টেশনের কাছে একটি পুরোনো বোলিং অ্যালিতে। এই জায়গাটির প্রভাব ৪৩ বছর পর ২০১৫ সালে রিলিজ হওয়া ডেথ প্যারেড অ্যানিমেতে দেখা যায়।

শুরু – ৭০ ও ৮০ দশকের অ্যাডাপ্টেশন

ম্যাডহাউজের প্রথম কাজ ছিল টিএমএস এন্টারটেইনমেন্টের জন্য করা “এইম ফে দ্য এইস! (Aim for the Ace!)”-এর অ্যানিমে অ্যাডাপ্টেশন। যেহেতু টিএমএস-এর প্রতিষ্ঠাতা ইউতাকা ফুজিওকা ম্যাডহাউজের ইনিশিয়াল ফান্ডিং দিয়ে সহায়তা করেছিলেন, তাই তাদের প্রথম দিকের বেশিরভাগ কাজই ছিল টিএমএস-এর জন্য কন্ট্রাক্ট অ্যানিমেশন।

ম্যাডহাউজের প্রথম দিকের অন্যান্য কাজের মধ্যে রয়েছে ইয়ে নাকি কো (Nobody’s Boy Remi) এবং ১৯৭৮ সালের তাকারাজিমা (Treasure Island), যা ছিল সেই সময়ের জনপ্রিয় ধারা, পশ্চিমা সাহিত্যের অ্যাডাপ্টেশন। টিএমএস এবং ম্যাডহাউজ পরবর্তীতে আবার একসাথে কাজ করেছিলো ২০১৬ সালে সেইনেন রাগবি মাঙ্গা “অল আউট!!”-এর অ্যানিমে অ্যাডাপ্টেশনে। এর মাঝে তারা একসাথে আর কোনো কাজ করেনি।

ম্যাডহাউজ আরও বেশ কিছু স্টুডিওর জন্য শুধু অ্যানিমেশনের কাজ করেছে যেমন সানরিও ও তেজুকা প্রোডাকশনস (ইউনিকো, ১৯৮১), টাতসুনোকো প্রোডাকশন ও এমকে পিকচারস (গ্যালাকটিক প্যাট্রল লেন্সম্যান, ১৯৮৪), এবং কিটি ফিল্মস (ইয়াওয়ারা! এ ফ্যাশনেবল জুডো গার্ল, ১৯৮৯)।

ইয়াওয়ারা!-এর মাধ্যমে ম্যাডহাউজ বিখ্যাত মাঙ্গাকার নাওকি উরাসাওয়ার মাঙ্গা অ্যানিমে অ্যাডাপ্টেশনের কাজে জড়িত হয়। পরবর্তীতে তারা মাস্টার কিটন এবং সবার কাছে প্রশংসিত মনস্টার-এর মতো অ্যানিমে নির্মাণ করে।

১৯৮৭ সালে স্টুডিওটি ইয়োশিয়াকি কাওয়াজিরির প্রথম পরিচালিত মুভি ইয়োজু তোশি (Wicked City) নির্মাণ করে। এছাড়া ম্যাডহাউজ কাল্ট-হিট “স্পেস অপেরা গিঙ্গা এইউ দেনসেটসু (Legend of the Galactic Heroes)”-এর প্রথম ২৬টি ওভিএ (অরিজিনাল ভিডিও অ্যানিমেশন) এপিসোড এবং ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত এই সিরিজের প্রথম মুভির অ্যানিমেশনেও অবদান রাখে।

গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য – বিশ্বমানের প্রকৃষ্টতা

যদিও ম্যাডহাউজ ১৯৭০ ও ৮০-এর দশকে যথেষ্ট পরিচিতি লাভ করে, তবে ১৯৯০ ও ২০০০-এর দশকের শুরুতে তারা আসলেই নিজেদের একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়। এই সময়ে তারা তৈরি করে ফ্যান্টাসি এপিক অ্যানিমে রেকর্ড অব লোডোস ওয়ার (Record of Lodoss War), স্পেস ওয়েস্টার্ন ট্রাইগান (Trigun), বক্সিং ক্লাসিক ফাইটিং স্পিরিট (Fighting Spirit), সুপারন্যাচারাল মিস্ট্রি বোগিপপ ফ্যান্টম (Boogiepop Phantom), এবং আন্টাররেটেড রক অ্যানিমে মঙ্গোলিয়ান চপ স্কোয়াড (Mongolian Chop Squad) এর মতো সব বাঘা-বাঘা অ্যানিমে। এর পাশাপাশি তাদের সবচেয়ে প্রশংসিত কাজের একটি ছিল মন্সটার (Monster)।

এই সময়ে ম্যাডহাউস বিখ্যাত মাঙ্গা গ্রুপ CLAMP-এর সঙ্গে একটি শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং তাদের মাঙ্গাগুলোর অ্যাডাপ্টেশন তৈরি করতে থাকে। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ছিল ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত কার্ডক্যাপটর সাকুরা (Cardcaptor Sakura)। CLAMP-এর অন্যান্য কাজ, যেমন টোকিও ব্যবিলিয়ন (Tokyo Babylon),  এক্স (X), চোবিটস (Chobits), এবং CLAMP in Wonderland-এর অ্যানিমেটেড মিউজিক ভিডিওগুলো ম্যাডহাউজের হাতেই তৈরি।

মুভির ক্ষেত্রে, ইয়োশিআকি কাওয়াজিরি পরিচালক হিসাবে ম্যাডহাউজের সঙ্গে বেশ কিছু কাজ করেন। এর মধ্যে নিনজা স্ক্রোল (Ninja Scroll) এবং ভ্যাম্পায়ার হান্টার ডি: ব্লাডলাস্ট (Vampire Hunter D: Bloodlust) উল্লেখযোগ্য। অন্যদিকে ম্যাডহাউজেই ১৯২৭ সাল প্রকাশিত এক জার্মান চলচ্চিত্রের উপর ভিত্তি করে ওসামু তেজুকার তৈরি মাঙ্গা মেট্রোপলিস (Metropolis)-এর অ্যানিমে অ্যাডাপ্টেশন পরিচালনা করেন রিনতারো। ম্যাডহাউজ দ্য অ্যানিমেট্রিক্স (The Animatrix) ফিল্ম অ্যান্থলজির দুটি পার্টও তৈরি করে। এটি ছিল দ্য ওয়াচাওস্কি-র বিখ্যাত ম্যাট্রিক্স (Matrix) মুভি সিরিজের উপর ভিত্তি করে তৈরি বেশকিছু শর্ট ফিল্মের সংগ্রহ। এছাড়া তারা সাইক্লিং অ্যানিমে নাসু: সামার ইন আন্দালুসিয়া (Nasu: Summer in Andalusia) তৈরি করে, যা প্রথম জাপানি অ্যানিমেটেড ফিল্ম হিসেবে কান চলচ্চিত্র উৎসবে মনোনীত হয়।

নাসু পরিচালনা করেন কিতারো কোসাকা। এর আগে তিনি ম্যাডহাউজের সঙ্গে ইয়াওয়ারা (Yawara)-তে কাজ করেছিলেন। এছাড়াও তিনি জিবলির বেশ কয়েকটি মুভি ও আকিরা (Akira)-তে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি ম্যাডহাউজের সঙ্গে পুনরায় কাজ করেন মনস্টার (Monster)-এর ক্যারেক্টার ডিজাইনার হিসেবে এবং নাসু-এর সিকুয়েল নাসু: আ মাইগ্রেটরি বার্ড ইউথ স্যুটকেইস (Nasu: A Migratory Bird with Suitcase)-এর পরিচালক হিসাবে।

সাতোশি কন – স্বপ্নের কারিগর

প্রখ্যাত নির্মাতা সাতোশি কন ১৯৯৭ সালে ম্যাডহাউস স্টুডিওর সাথে তাঁর পরিচালনার অভিষেক ঘটান সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার পারফেক্ট ব্লু (Perfect Blue )-এর মাধ্যমে। এরপর তিনি তাঁর সংক্ষিপ্ত কর্মজীবনে স্টুডিওটির সাথে একচেটিয়াভাবে কাজ করেন এবং একের পর এক মাস্টারপিস পরিচালনা করেন: মিলেনিয়াম অ্যাক্ট্রেস (Millennium Actress), টোকিও গডফাদারস (Tokyo Godfather), এবং পাপ্রিকা (Paprika), পাশাপাশি তাঁর একমাত্র টিভি সিরিজ প্যারানয়া এজেন্ট (Paranoia Agent)। তাঁর শেষ কাজ ছিল একটি ১ মিনিটের শর্ট ফিল্ম গুড মর্নিং (গুড মর্নিং), যা ১৫টি শর্ট ফিল্মের সংগ্রহ অনি*কুরি১৫ (Ani*Kuri15)-এর অংশ ছিল। এই প্রজেক্টটি তিনি মামোরু ওশি এবং মাকোটো শিঙ্কাইয়ের সাথে যৌথভাবে অর্গানাইজ করেছিলেন।

সাতোশি কনের শেষ মুভি ড্রিমিং মেশিন (Dreaming Machine), তাঁর অকাল প্রয়াণের কারণে অসম্পূর্ণ থেকে যায়। ২০১০ সালে মাত্র ৪৬ বছর বয়সে অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারে তিনি মারা যান। ২০১৬ সালের একটি সাক্ষাৎকারে প্রযোজক মাসাও মারুয়ামা বলেন, বহু বছর ধরে কনের ফেলে রাখা মুভিটি সম্পূর্ণ করার জন্য উপযুক্ত পরিচালক খোঁজার পর তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্তে আসেন যে, শুধুমাত্র সাতোশি কন-ই এই মুভিটি সম্পূর্ণ করতে পারতেন। এখন পর্যন্ত মুভিটি আনফিনিশড অবস্থায় পরে আছে।

মৃত্যুর পূর্বে, সাতোশি কন ২০০৭ সালে জাপানিজ অ্যানিমেশন ক্রিয়েটরস অ্যাসোসিয়েশন (JAniCA) প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এটি একটি অলাভজনক সংস্থা, যা অ্যানিমে শিল্পের সাথে জড়িত কর্মীদের কাজের পরিবেশ উন্নত করার জন্য কাজ করে থাকে।

মিলেনিয়াম পেরিয়ে পরবর্তী অধ্যায় – নতুন দিগন্ত

জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা ম্যাডহাউজ, ২০০০ এবং ২০১০-এর দশকের শুরুরদিকে তাদের সফল পথচলা অব্যাহত রাখে। এই সময়ে স্টুডিওর সবচেয়ে বিখ্যাত এবং জনপ্রিয় সিরিজগুলো তৈরি হয়, যার মধ্যে অন্যতম হলো বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করা ডেথ নোট (Death Note)। ডেথ নোট নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। আমাদের প্রজন্মের অনেকেরই অ্যানিমে দেখার হাতেখড়ি হয় এই ডেথ নোট দিয়ে। কেউ নতুন অ্যানিমে দেখা শুরু করতে চাইলে রেকোমেন্ডেশনের শীর্ষে থাকে এই ডেথ নোট। এই সময়ের ম্যাডহাউজের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য অ্যানিমের মধ্যে রয়েছে নানা (NANA), ব্ল্যাক ল্যাগুন (Black Lagoon), হেলসিং আল্টিমেট (Hellsing Ultimate), ক্লেমোর (Claymore), দেন্যোউ কয়েল (Dennou Coil), ওয়ান আউটস (One Outs), কাইজি (Kaiji), হাইস্কুল অব দ্য ডেথ (Highschool of the Dead), হান্টার × হান্টার (Hunter × Hunter, 2011) এবং চিহায়াফুরু (Chihayafuru)।

এই সময়ে ম্যাডহাউজের সঙ্গে আরও দুইজন বিখ্যাত পরিচালক কাজ করেন, মাসাকি ইউয়াসা এবং মামোরু হোসোদা। ইউয়াসা ম্যাডহাউজের জন্য তিনটি টিভি সিরিজ পরিচালনা করেন: কিমোনোজুমি (The Beast Claw), কাইবা (Kaiba) এবং দ্য তাতামি গ্যালাক্সি (The Tatami Galaxy)। অন্যদিকে, হোসোদা তার কিছু সেরা চলচ্চিত্র ম্যাডহাউজের সঙ্গে তৈরি করেছেন, যেমন দ্য গার্ল হু লেপ্ট থ্রু টাইম (The Girl Who Leapt Through Time), সামার ওয়ার্স (Summer Wars) এবং উল্ফ চিলড্রেন (Wolf Children)।

আরেকটি অসাধারণ সৃষ্টি, চমকপ্রদ সাই-ফাই রেসিং মুভি রেডলাইন (Redline), ২০০৯ সালে ম্যাডহাউস থেকে মুক্তি পায়। এটি পরিচালনা করেন তাকেশি কোইকে, যিনি আগে ম্যাডহাউজের সঙ্গে The Animatrix-এর একটি অংশ পরিচালনা করেছিলেন। সাত বছর ধরে তৈরি করা এই মুভিতে ১,০০,০০০ এরও বেশি হাতে আঁকা ছবি ব্যবহৃত হয়। এর বিশদ এবং কারিগরি দক্ষতা একে বিশেষভাবে আলাদা করেছে, হাতে আঁকা অ্যানিমেশনের সীমাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

মডার্ন ম্যাডনেস – মারুয়ামার বিদায় ও ভবিষ্যৎ

মাসাও মারুয়ামা ১৯৮০ সালে ম্যাডহাউজের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে স্টুডিওটির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিলেন। প্রধান প্রযোজক ও স্টুডিও প্রধান হিসেবে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিতেন কোন প্রজেক্টগুলি ম্যাডহাউজ প্রযোজনা করবে। প্রতিটি প্রজেকশনে স্টাফ নির্বাচন এবং অনেক সিরিজ ও মুভি পরিকল্পনায় তার সরাসরি প্রভাব ছিল। ২০১১ সালে তিনি ম্যাডহাউজের ছেড়ে নিজের নতুন স্টুডিও মাপ্পা (MAPPA) প্রতিষ্ঠা করেন। এই বিদায় ম্যাডহাউজের জন্য একটি বড় পরিবর্তন এনেছিল, তবে স্টুডিওটি এরপর থেমে থাকে নি, অনেক চমৎকার অ্যানিমে তৈরি করে চলেছে।

ম্যাডহাউজের সাম্প্রতিক উল্লেখযোগ্য প্রযোজনার মধ্যে রয়েছে নো গেইম নো লাইফ (No Game No Life), এইস অফ ডায়মন্ড (Ace of Diamond), ডেথ প্যারেড (Death Parade), প্যারাসাইট দ্য ম্যাক্সিম (Parasyte -the maxim-), ওভারলর্ড (Overlord) সিরিজ, ওয়ান-পাঞ্চ ম্যান (One-Punch Man) মাই লাভ স্টোরি!! (My Love Story!!), এবং আ প্লেস ফার্দার দ্যান দ্য ইউনিভার্স (A Place Further Than The Universe)। স্টুডিওটি তাদের “মূল শিকড়ে” ফিরে গিয়ে কিছু পুরোনো সিরিজগুলির সিক্যুয়েল বা স্পিন-অফও তৈরি করছে।

তবে, গত কয়েক বছর ধরে মনে হচ্ছে ম্যাডহাউজ ধীরে ধীরে তাদের প্রাসঙ্গিকতা হারাচ্ছে। অনেক ভক্ত তাদের পুরোনো কাজগুলোর জন্য মনে রাখলেও বর্তমানে খুব কম মানুষই বলতে পারবে তারা গত কয়েক বছরে ঠিক কী কী অ্যানিমে তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ম্যাডহাউজের নিয়ে সবচেয়ে বড় হতাশা ওয়ান-পাঞ্চ ম্যান-এর দ্বিতীয় সিজন না বানানো নিয়ে, প্রথম সিজন ম্যাডহাউজ করলেও দ্বিতীয় অ্যানিমেট করেছে জে.সি. স্টাফ।

মাপ্পার মতো ম্যাডহাউজও ইদানীং ফ্রিল্যান্স অ্যানিমেটরদের সাথে ব্যাপকভাবে কাজ করে। এই কারণে, তারা যে সিরিজগুলো তৈরি করে তার কোয়ালিটি এক অ্যানিমে থেকে আরেক অ্যানিমেতে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়। 

ওয়ান পাঞ্চ ম্যান-এর প্রথম সিজন ছিল ম্যাডহাউজের সাম্প্রতিক সময়ের একটি উল্লেখযোগ্য প্রোডাকশন। এরকম আরেকটি অসাধারণ প্রোডাকশন হলো কয়েক বছর আগে মুক্তিপ্রাপ্ত সন্নি বয় (Sonny Boy)। তবে বাস্তবতা হলো, ম্যাডহাউজ এখনো “ব্যাঙ্গার” কাজ ডেলিভার করার সক্ষমতা রাখে যার উদাহরণ (Frieren: Beyond Journey’s End) ফ্রিরেন: বিয়ন্ড জার্নি’স এন্ড। এ যুগের সেরা অ্যানিমে সিরিজ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এই ফ্রিরেন।

২০২৩-২৪ সালে, ম্যাডহাউজ একটি স্টেবল আউটপুট ধরে রাখতে পেরেছিলো, এসময় তারা মুক্তি দিয়েছে মাই লাভ স্টোরি উইথ ইয়ামাদা-ক্যুন অ্যাট লেভ৯৯৯ (My Love Story with Yamada-kun at Lv999), দ্য জিন অফ এআই (The Gene of AI)। এরপর আসে ওভারলর্ড: দ্য সেক্রেড কিংডম (Overlord: The Sacred Kingdom) মুভি এবং ট্রিলিয়ন গেম (Trillion Game), অর্ব: অন দ্য মুভমেন্টস অফ দ্য আর্থ (Orb: On the Movements of the Earth) এর মতো অ্যানিমে।

একটি স্টুডিও হিসেবে, ম্যাডহাউজ অ্যানিমে শিল্পে বিশাল অবদান রেখেছে। এই শিল্পের সবচেয়ে প্রতিভাবান ব্যক্তিদের ভিশন বাস্তবায়ন করেছে। তৈরি করেছে নতুন-নতুন স্ট্যান্ডার্ড। যদিও বছরের পর বছর ধরে ম্যাডহাউজের কী স্টাফ এবং সংশ্লিষ্ট পরিচালকরা পরিবর্তিত হয়েছে। অনেকে হয়ত বলবে এতটাই পরিবর্তন হয়েছে যে বর্তমান স্টুডিওটি প্রায় অচেনা কিন্তু তারপরও ম্যাডহাউজ অ্যানিমে জগতে এখনও বড় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও চালিয়ে যাবে বলে আশা করা যায়।

Share This Article
ফেইসবুক লিংক কপি করুন
পূর্ববর্তী প্রবন্ধ অ্যানিমিট কার্নিভাল স্থগিত, নতুন স্বপ্ন নিয়ে ফিরছে ২০২৬-এ অ্যানিমিট কার্নিভাল স্থগিত, নতুন স্বপ্ন নিয়ে ফিরছে ২০২৬-এ
পরবর্তী প্রবন্ধ সাউন্ড! ইউফোনিয়াম: দ্য ফাইনাল মুভি পার্ট ১ আসছে ২০২৬ এর এপ্রিলে সাউন্ড! ইউফোনিয়াম: দ্য ফাইনাল মুভি পার্ট ১ আসছে ২০২৬ এর এপ্রিলে
মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বাধিক জনপ্রিয়

গ্র্যান্ড ব্লু সিজন ৩-এর মূল ট্রেলার প্রকাশ, প্রিমিয়ার ৬ জুলাই

জনপ্রিয় কমেডি অ্যানিমে গ্র্যান্ড ব্লু-এর তৃতীয় সিজনের মূল ট্রেলার প্রকাশ করা হয়েছে। ট্রেলারটিতে নতুন সিজনের…

২৪ জুন, ২০২৬

বাংলাদেশি কমিক কালচারকে নতুন উচ্চতায় নিতে আসছে ‘দেশি কমিক কন ঢাকা ২০২৬’

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হচ্ছে দেশি কমিক কন ঢাকা ২০২৬ (Deshi Comic Con Dhaka…

১৭ জুলাই, ২০২৬

দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর ৭ আগস্ট ফিরছে ‘ঢাকা পপ & কসপ্লে ফেস্ট ২০২৬’

বাংলাদেশের, কসপ্লে এবং পপ কালচার অনুরাগীদের জন্য সুখবর। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবারও ফিরছে বহুল প্রতিক্ষিত…

২৪ জুলাই, ২০২৬

প্রাণবন্ত আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো “ঢাকা পপ & কসপ্লে ফেস্ট ২০২৬”

দুই বছরের বিরতির পর আবারও অ্যানিমে, কসপ্লে ও পপ কালচারপ্রেমীদের মিলনমেলায় পরিণত হলো রাজধানীর মোহাম্মদপুরে…

১২ আগস্ট, ২০২৬

দেশি চরিত্রকেন্দ্রিক দেশি কমিক কন – ঢাকা ২০২৬ নিয়ে আয়োজকদের নতুন আপডেট

​রাজধানীর টোকিও স্কয়ার কনভেনশন সেন্টারের বড় হলরুমে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে…

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ফেইসবুকLike
এক্সFollow
পিন্টারেস্টPin
ইন্সটাগ্রামFollow
ইভেন্ট

১৯ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘আ ডে অ্যাট হগওয়ার্টস – ঢাকা ২০২৬’

১৯ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে 'আ ডে অ্যাট হগওয়ার্টস - ঢাকা ২০২৬'

হ্যারি পটার ভক্তদের জন্য সুখবর। আগামী ১৯ জুন, ২০২৬ রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ফ্যান ইভেন্ট আ ডে অ্যাট হগওয়ার্টস - ঢাকা ২০২৬ (A Day at…

১১ জুন, ২০২৬

এগুলিও দেখতে পারেন

গ্র্যান্ড ব্লু সিজন ৩-এর মূল ট্রেলার প্রকাশ, প্রিমিয়ার ৬ জুলাই
সংবাদঅ্যানিমে

গ্র্যান্ড ব্লু সিজন ৩-এর মূল ট্রেলার প্রকাশ, প্রিমিয়ার ৬ জুলাই

২৪ জুন, ২০২৬
দেশি চরিত্রকেন্দ্রিক দেশি কমিক কন - ঢাকা ২০২৬ নিয়ে আয়োজকদের নতুন আপডেট
সংবাদইভেন্ট

দেশি চরিত্রকেন্দ্রিক দেশি কমিক কন – ঢাকা ২০২৬ নিয়ে আয়োজকদের নতুন আপডেট

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বাংলাদেশি কমিক কালচারকে নতুন উচ্চতায় নিতে আসছে ‘দেশি কমিক কন ঢাকা ২০২৬’
সংবাদইভেন্ট

বাংলাদেশি কমিক কালচারকে নতুন উচ্চতায় নিতে আসছে ‘দেশি কমিক কন ঢাকা ২০২৬’

১৭ জুলাই, ২০২৬
দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর ৭ আগস্ট ফিরছে 'ঢাকা পপ & কসপ্লে ফেস্ট ২০২৬'
সংবাদইভেন্ট

দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর ৭ আগস্ট ফিরছে ‘ঢাকা পপ & কসপ্লে ফেস্ট ২০২৬’

২৪ জুলাই, ২০২৬
otakubangla-logo

ওটাকু বাংলা বাংলায় প্রথম অ্যানিমে রিভিউ ও ডেটাবেজ সাইট। বাংলা ভাষায় জাপানিজ অ্যানিমেশনের দুনিয়া এক্সপ্লোর করার সর্বপ্রথম প্লাটফর্ম। বাংলায় অ্যানিমে নিউজ, রিভিউ, ডিসকাশন এবং ক্রিটিকের প্রথম কমিউনিটি হিসেবে আমরা বাংলা ভাষাভাষী ওটাকুদের জন্য দিচ্ছি অন্যরকম এক অভিজ্ঞতা।

প্রয়োজনীয় লিঙ্ক

  • অ্যাড রিকোয়েস্ট
  • আমাদের টিম
  • যুক্ত হোন আমাদের সাথে
  • আমাদের কথা
  • প্রাইভেসি পলিসি
  • টার্মস অব ইউজ
বিজ্ঞাপন দিন ওটাকু বাংলা-তে
Follow US
© 2023 – 2026 ওটাকু বাংলা।
  • অ্যাড রিকোয়েস্ট
  • আমাদের টিম
  • যুক্ত হোন আমাদের সাথে
  • আমাদের কথা
  • প্রাইভেসি পলিসি
  • টার্মস অব ইউজ
Welcome Back!

Sign in to your account

Username or Email Address
Password

Lost your password?

Not a member? Sign Up