সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় অ্যানিমে ‘অ্যাটাক অন টাইটান’-এর ফাইনাল এপিসোড রিলিজের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি হলো তুমুল জনপ্রিয় সিরিজটির। গত ৪ঠা নভেম্বর, ২০২৩ তারিখে রিলিজ হয় ‘অ্যাটাক অন টাইটান’ সিরিটির সর্বশেষ অংশ। প্রায় দেড় ঘণ্টার এই অংশে অ্যাডাপ্ট করা হয় কাহিনীর উপসংহার।
২০১৩ সালে প্রথম সম্প্রচারে পর দুনিয়াময় অ্যানিমে ফ্যানদের প্রবলভাবে আলোড়িত করেছিলো হাযিমে ইসাইয়ামা’র মাঙ্গার উপর ভিত্তি করে নির্মিত অ্যানিমে অ্যাটাক অন টাইটান।
অ্যাকশন-শোনেন জনরার সিরিজটি শুধু দুনিয়াব্যাপি ফ্যান-ফেভারিট সিরিজেই পরিণত হয়নি, একইসাথে পরিণত হয়েছে সর্বকালের সবচেয়ে আইকনিক একটি সিরিজে।

সিরিজটির প্লটের সূচনা হয় অ্যাপোক্যালিপ্টিক এক ওয়ার্ল্ডে যেখানে মানবজাতি দাঁড়িয়ে আছে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। মানুষখেকো দানব “টাইটান” আর মানবজাতির মধ্যে সীমানা হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে সুউচ্চ তিনটি প্রাচীর। কে এই প্রাচীরের নির্মাতা? টাইটানদের আবির্ভাব কিভাবে হয়েছিলো? কিভাবে টাইটানদের হারিয়ে মানবজাতিকে ধ্বংস হতে রক্ষা সম্ভব?
এমন অনেক অজানা প্রশ্ন নিয়ে শুরু হয়েছিলো সিরিজট। সিরিজটির প্রধান চরিত্র হিসেবে ছিলো তিন বাল্যবন্ধু, এরেন, মিকাসা ও আরমিন। সিরিজের সূচনা হয় প্রাচীর ভেদ করে টাইটানদের আক্রমনের মধ্যে দিয়ে। চোখের সামনে মায়ের মৃত্যুর সাক্ষী হয়ে এরেন শপথ নেয় দুনিয়া থেকে টাইটানদের নিশ্চিহ্ন করার, যোগ দেয় স্কাউট রেজিমেন্টে, দুঃসাহসী একদল সৈন্য যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রাচীরের বাইরের মৃত্যুফাঁদে পা দেয় মানবজাতিকে রক্ষার উপায় খুঁজতে।

সিরিজটি একইসাথে রোমাঞ্চকর, টানটান উত্তেজনায় ভরা, সাথে রয়েছে মানুষের সাথে টাইটানদের লড়াই। এরই মাঝে কাহিনীর প্রথমদিকের অজানা প্রশ্নগুলোর উত্তর ধীরে ধীরে আলোতে আসতে থাকে। অসংখ্য প্লট-টুইস্ট ও স্যাক্রিফাইসের মধ্য দিয়ে টাইটানদের রহস্য থেকে শুরু করে দুনিয়া ও মানবসভ্যতার সত্যিকার ইতিহাস উন্মোচনের মাধ্যমে সিরিজটি কাহিনী প্রচণ্ড জটিল রূপ নেয় যা একইসাথে সিরিজটির চরিত্রগুলোকে দেয় গভীরতা। সিরিজটি একইসাথে আমাদের কাছে তুলে ধরে প্রচণ্ড লাইকেবল কিছু চরিত্রকে, একইসাথে ফ্যানদের মনে প্রশ্ন জাগায় সিরিজটির কাহিনীর প্রেক্ষাপটে তাদের পছন্দের চরিত্রের ভূমিকা নিয়ে।
প্রতিটি সিরিজেরই ইতিবাচক-নেতিবাচক দিক থাকে। দীর্ঘ এক দশক সময়ে ফ্যানদের মন জয় করার পাশাপাশি বহুল সমালোচিতও হয়েছে সিরিজটি; বিভিন্ন দেশে শিকার হয়েছে ব্যানের। সিরিজটির কনক্লুশন, টাইম স্কিপ, প্লট ডেভেলপমেন্ট নিয়ে ফ্যানদের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন অভিযোগ। এমনকি সিরিজের শেষ অংশের অ্যানিমেশন, আর্ট স্টাইল নিয়েও হয়েছে সমালোচনা। অ্যাটাক অন টাইটান-এর পক্ষে-বিপক্ষে এত তর্কবিতর্ক সিরিজটির তুমুল জনপ্রিয়তাকেই নির্দেশ করে।
৭ এপ্রিল, ২০১৩ থেকে আজ পর্যন্ত, এই এক দশকের যাত্রায় সিরিজটির সাথে আমাদের অনেকেরই আবেগ, স্মৃতি জড়িয়ে আছে। এটি নিঃসন্দেহে অ্যানিমে ইতিহাসের সবচেয়ে আইকনিক অ্যানিমে সিরিজের একটি এবং “অ্যাটাক অন টাইটান” স্মরণীয় হয়ে থাকবে কোটি কোটি ফ্যানদের অন্তরে।
রাইটার: আজহার মাহমুদ, ওটাকু বাংলা
